বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নাম শুনেনি, বাংলাদেশে এমন কোন শিক্ষিত মানুষ সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না। সবাই তাকে নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃত হিসেবে জানে। স্কুলের পাঠ্যসূচীতে বিভিন্ন শ্রেণীতে তার বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ রয়েছে। তার নামে হয়েছে অনেক স্কুল, কলেজ, স্মৃতিসংঘ, পুরষ্কার ইত্যাদি। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে রংপুরে তার নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণও করা হয়েছে।
তার সময়ে মেয়েদের শিক্ষাদীক্ষাকে নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় মনে করা হত। ক্ষেত্রবিশেষে এটাকে বানান হত সমাজ বিরোধীতার সমতূল্য। আর সমাজের সর্বব্যাপী এটাকে ধর্মীয় মোড়কে পর্দাপ্রথা বলে চালিয়ে দেয়া হত। প্রচলিত অর্থে পর্দাপ্রথা বলতে মূলতঃ মেয়েদের বাড়ির বাইরে বের হবার উপর নিষেধাজ্ঞা বুঝায়। কিন্তু এর ধর্মীয় ভিত্তি এবং তাৎপর্য বেশ আলাদা। একথা অনস্বীকার্য যে ইসলামী শরিয়ত মেয়েদের পোষাক-আশাক, চলাফেরার উপরে ছেলেদের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রন আরোপ করেছে (এই বিধানের নায্যতার আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। তবে এটুকু বলতে পারি, এক্ষেত্রে অসমতা মানেই অবিচার নয়। ছেলেদের স্বাধীনতা বেশি, পাশাপাশি ছেলেদের দায়িত্ব-কর্তব্যও বেশি।)। কিন্তু এই নিয়ন্ত্রণ কোনভাবেই মেয়েদের শিক্ষা পর্যন্ত প্রসারিত করা যায় না। এধরনের সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে কলম ধরেন বেগম রোকেয়া। শক্তিশালী লেখনীর মাধ্যমে তিনি নারী শিক্ষার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। মাত্র ৮ জন ছাত্রী নিয়ে দেশে প্রথমবারের মত প্রতিষ্ঠা কারেন মেয়েদের জন্য আলাদা স্কুল। শুরুতে ছাত্রী সংখ্যা কম থাকলেও দ্রুত এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। কয়েক বছরের মধ্যেই সেটি হাইস্কুলে পরিণত হয়।
তার সময়ে মেয়েদের শিক্ষাদীক্ষাকে নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় মনে করা হত। ক্ষেত্রবিশেষে এটাকে বানান হত সমাজ বিরোধীতার সমতূল্য। আর সমাজের সর্বব্যাপী এটাকে ধর্মীয় মোড়কে পর্দাপ্রথা বলে চালিয়ে দেয়া হত। প্রচলিত অর্থে পর্দাপ্রথা বলতে মূলতঃ মেয়েদের বাড়ির বাইরে বের হবার উপর নিষেধাজ্ঞা বুঝায়। কিন্তু এর ধর্মীয় ভিত্তি এবং তাৎপর্য বেশ আলাদা। একথা অনস্বীকার্য যে ইসলামী শরিয়ত মেয়েদের পোষাক-আশাক, চলাফেরার উপরে ছেলেদের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রন আরোপ করেছে (এই বিধানের নায্যতার আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। তবে এটুকু বলতে পারি, এক্ষেত্রে অসমতা মানেই অবিচার নয়। ছেলেদের স্বাধীনতা বেশি, পাশাপাশি ছেলেদের দায়িত্ব-কর্তব্যও বেশি।)। কিন্তু এই নিয়ন্ত্রণ কোনভাবেই মেয়েদের শিক্ষা পর্যন্ত প্রসারিত করা যায় না। এধরনের সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে কলম ধরেন বেগম রোকেয়া। শক্তিশালী লেখনীর মাধ্যমে তিনি নারী শিক্ষার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। মাত্র ৮ জন ছাত্রী নিয়ে দেশে প্রথমবারের মত প্রতিষ্ঠা কারেন মেয়েদের জন্য আলাদা স্কুল। শুরুতে ছাত্রী সংখ্যা কম থাকলেও দ্রুত এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। কয়েক বছরের মধ্যেই সেটি হাইস্কুলে পরিণত হয়।
যাই হোক, বেগম রোকেয়ার সবচেয়ে আলোচিত প্রবন্ধ Sultana's Dream বা সুলতানার স্বপ্ন পড়ছিলাম। প্রবন্ধটি ১৯০৫ সালে মাদ্রাজ থেকে প্রকাশিত The Indian Ladies' Magazine এ প্রথমবারের মত প্রকাশিত হয়। নারীবাদীদের স্বপ্নপূরীর গল্প। যে দেশে পুরুষরা ঘরের ভিতরে চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। পুরুষেরা করে ঘরের কাজ, আর নারীরা ব্যাস্ত প্রশাসনিক সহ যাবতীয় 'বাইরের' কাজে। কাহিনী বেশ মজার:
- আগেই বলেছি, ছেলেরা থাকে ঘরের ভিতর। তাদের বাইরে আসতে মানা। বাইরের সব কাজের দায়িত্ব মেয়েদের
- ছেলেরা রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ঘরের যাবতীয় কাজ করে। কিন্তু তারা সেলাই করে না। কারণ, মেয়েরা তাদেরকে সেলাইয়ের কাজ দিয়ে ভরসা পায় না। সেলাইয়ের কাজটা মেয়েরা নিজেরা করে।
- মেয়েরা বাইরের সব কাজ করলেও কৃষিকাজ করে না। কারণ তাদের দেহ লাঙ্গল ঠেলার মত শক্ত কাজের উপযোগী না। এধরনের সব কাজ করা হয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সাহায্যে।
- দেশে কোন অপরাধ নেই, তাই পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের দরকার হয় না।
- বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে দেশটি অনেক অগ্রসর। মেয়েরা বেলুনের মাধ্যমে মেঘ থেকে পানি আহরণের উপায় আবিষ্কার করেছে। কাজেই দেশে এখন কোন মেঘ নেই। মেঘ নেই বলে ঝড়-বৃষ্টিও নেই। রাস্তাঘাট কাদা হয়ে থাকে না। তবে দরকার পড়লে গরমের সময় এই আহরিত পানি ফোয়ারার মাধ্যমে সারা দেশে ছিটানো হয়।
- এরকম আরেকটি আবিষ্কারের মাধ্যমে পাইপে করে সূর্যের আলো সরবরাহ করা হয়। রান্না করা, ঘর গরম করা সহ সব কাজে এই সৌরশক্তিকে কাজে লাগানো হয়। কাজেই কোন আগুন, ধোঁয়া ইত্যাদি নাই।
- এই ঘনীভূত সূর্যের আলো দিয়ে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে একবার এক হানাদার বাহিনীকে ভাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে আর কেউ এই দেশেকে আক্রমণ করার সাহস করে না। কাজেই দেশে এখন কোন সেনাবাহিনীও নাই।
তবে নারীবাদীদের স্বপ্নপূরী (Feminist Utopia) হিসেবে পরিচিত এই লেখার কিছু অংশের সাথে আমাদের দেশের বর্তমান নারীবাদীদের ধ্যান-ধারণার চরম বৈপরীত্য চোখে পড়ল। যেমন, শুরুতেই লেখিকা নিজেকে পর্দানশীন দাবী করেছেন। বোরকা (veil) ছাড়া রাস্তায় বের হয়ে তিনি বেশ লজ্জা পাচ্ছিলেন। পরে অবশ্য রাস্তায় কোন পুরুষ নেই শুনে তার আড়ষ্ঠতা কেটে যায়।
বেগম রোকেয়ার স্বপ্নপূরীতে মেয়েদেরকে ঘরের ভিতরে আটকে থাকতে হয় না। তারা বাড়ির বাইরে কাজ করে। কিন্তু সেখানেও নারী-পুরুষের কর্মক্ষেত্র আলাদা। পুরুষদেরকে ঘরের ভিতরে ঢুকানোর পরে মেয়েরা বাইরে এসেছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও মেয়েদের আর ছেলেদের জন্য রয়েছে পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্বপ্নপূরীতে মেয়েদের বাইরে বের হবার স্বাধীনতা থাকলেও ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশার সুযোগ নেই। বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে কেউ শুধুমাত্র তার আত্মীয়দের সাথেই দেখা করতে পারবে।
বেগম রোকেয়ার স্বপ্নপূরীতে মেয়েদেরকে ঘরের ভিতরে আটকে থাকতে হয় না। তারা বাড়ির বাইরে কাজ করে। কিন্তু সেখানেও নারী-পুরুষের কর্মক্ষেত্র আলাদা। পুরুষদেরকে ঘরের ভিতরে ঢুকানোর পরে মেয়েরা বাইরে এসেছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও মেয়েদের আর ছেলেদের জন্য রয়েছে পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্বপ্নপূরীতে মেয়েদের বাইরে বের হবার স্বাধীনতা থাকলেও ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশার সুযোগ নেই। বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে কেউ শুধুমাত্র তার আত্মীয়দের সাথেই দেখা করতে পারবে।
তবে এই দেশের একটা নিয়ম আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। মনে হচ্ছে, এই একটা নিয়ম থাকলে যেকোন শর্তে যেকোন জায়গায় যেতে রাজী হয়ে যেতাম। নিয়মটা হল -
"এখানে সবাইকে নির্ভেজাল সত্যবাদী হতে হবে। কেউ যদি মিথ্যা বলে, তার শাস্তি হল,
তাকে এই দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং আর কখনো ফিরতে পারবে না।"
তাকে এই দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং আর কখনো ফিরতে পারবে না।"
Comments